দেশের প্রত্নতাত্ত্বিক সম্পদ রক্ষায় র্যাবের বলিষ্ঠ পদক্ষেপ আবারও দৃশ্যমান হলো পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে। ‘বাংলাদেশ আমার অহংকার’—মূলমন্ত্রকে হৃদয়ে ধারণ করে অপরাধ দমনে সচেষ্ট এলিট ফোর্স র্যাব-১৩ এর একটি চৌকস দল বুধবার বিকেলে এক সফল অভিযান চালিয়ে উদ্ধার করেছে কয়েক দশক পুরনো এবং মহামূল্যবান একটি কষ্টিপাথরের বিষ্ণুমূর্তি। দেবীগঞ্জ উপজেলার দন্ডপাল ইউনিয়নের খগেরহাট ধনমন্ডল এলাকায় পরিচালিত এই অভিযানে শুধু সম্পদ উদ্ধারই নয়, হাতেনাতে গ্রেফতার করা হয়েছে সুজন মহন্ত নামের এক চোরাকারবারিকে। ৩৫ বছর বয়সী সুজন দেবীগঞ্জ থানার খগেরহাট বিনয়পুর এলাকার চিনমহন্তের ছেলে।
বৃহস্পতিবার সকালে র্যাব-১৩ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই অভিযানের বিস্তারিত জানানো হয়। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চালানো এই অভিযানে র্যাব সদস্যরা যখন ওই এলাকায় অবস্থান নেন, তখন পাচারকারী চক্রের সদস্য সুজন মহন্তের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় ২৯ কেজি ওজনের সেই বিশাল কষ্টিপাথরের মূর্তি। প্রত্নতাত্ত্বিক ও বাজার বিবেচনায় যার আনুমানিক মূল্য ধরা হয়েছে প্রায় ৮৭ লাখ টাকা। ৩১ ইঞ্চি দৈর্ঘ্য এবং ১৩ ইঞ্চি প্রস্থের এই অনন্য নিদর্শনটি আমাদের ইতিহাসের এক অমূল্য অংশ। র্যাবের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃত আসামি অকপটে স্বীকার করেছেন যে, দুর্লভ এই মূর্তিটি তিনি অবৈধভাবে সংগ্রহ করেছিলেন এবং সুযোগ বুঝে পার্শ্ববর্তী দেশে পাচারের গভীর পরিকল্পনা আঁটছিলেন।
র্যাব-১৩ এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও সিনিয়র সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) বিপ্লব কুমার গোস্বামী এই অভিযানের বিষয়ে জানিয়েছেন, দেশের মাটির নিচের ও উপরের মূল্যবান প্রত্নসম্পদ রক্ষা করা আমাদের নৈতিক ও পেশাগত দায়িত্ব। গ্রেফতারকৃত আসামির বিরুদ্ধে দেবীগঞ্জ থানায় সংশ্লিষ্ট আইনে নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং উদ্ধারকৃত কষ্টিপাথরের মূর্তিটি যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ায় থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। দেশের হাজার বছরের ঐতিহ্য ও অমূল্য সম্পদ যেন কোনোভাবেই সীমান্ত পার হয়ে পাচার হতে না পারে, সেজন্য র্যাবের গোয়েন্দা নজরদারি এবং এই ধরনের সাঁড়াশি অভিযান আগামীতেও অব্যাহত থাকবে বলে তিনি দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন।